আসন্ন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এডভোকেট মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ এনে রিটার্নিং অফিসারের কাছে আইনানুগ ব্যবস্খা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। যার ফলে মহাজোট প্রার্থীর নির্বাচনে জয়লাভের পথ অনেকটা সুগম হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছিল তা অনেকটা কেটে গেছে। এখন পুনর্গঠিত মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী বিএনপির স্খায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলামের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এম ইদ্রিস আলীকে দেখা যাচ্ছে। এ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে নৌকা আর ধানের শীষে।
এ বছর আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড তৃণমল পর্যায়ের নেতাদের ভোটে নির্বাচিত প্রার্থী সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান আনিসকে দল থেকে মনোনয়ন না দিয়ে এম ইদ্রিস আলীকে মনোনয়ন দেয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল আনিস অনুসারী নেতাকর্মীরা। কিন্তু আনিসুজ্জামান আনিস সম্প্রতি এম ইদ্রিস আলীর পক্ষে শোডাউন কারায় ফের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
স্খানীয় রাজনীতিবিদ ও ভোটারদের অভিমত, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী দু’জনই দু’দলের জন্য গুরুত্বপর্ণ ব্যক্তিত্ব। কারণ যে দলই ক্ষমতায় যাবে এ আসনের এমপির মন্তী হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। তাই এ আসনের গুরুত্ব ভোটারদের কাছে অনেক বেশি। প্রার্থীদের কাছে ভোটারদের চাওয়া-পাওয়া অনেক বেশি। এবার সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে মুন্সীগঞ্জে একটি আসন কমে গেছে।
জেলা বিএনপি সভাপতি বিগত ৫টি সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধাì অনুযায়ী এ বছর ঢাকা-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবদুল হাই। ফলশ্রুতিতে বড় দুই দলের বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ এম শামসুল ইসলাম এবং সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব এম ইদ্রিস আলীকে ঘিরে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। চারদলীয় জোট প্রার্থী এম শামসুল ইসলাম ও মহাজোট প্রার্থী এম ইদ্রিস আলী মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া উপজেলায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং স্খানীয় সুধীজনদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ আসনে আরও প্রচারণা চালাচ্ছেন মো. ইব্রাহীম বেপারী (বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশ), শেখ মো. কামাল হোসেন (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি), মো. মিল্টন হোসেন (জাসদ), মো. নুরুল ইসলাম (পিডিপি), নাজমুন্নাহার বেবী (জাতীয় পার্টি-জেপি)।
এদিকে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এডভোকেট মুজিবুর রহমান দল বদল করে আইনি মারপ্যাচে পড়ে মহাজোটের প্রার্থী হতে না পারা সত্ত্বেও জাতীয় পার্টির চড়াì প্রার্থী তালিকায় তার নাম বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় জনমনে বিভ্রাìির সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, আসন্ন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের অìর্ভুক্ত মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ২৬ হাজার ১৮২ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ১ লাখ ১৩ হাজার ১৭৬ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৩ হাজার ৬ জন। গজারিয়া উপজেলায় মোট ভোটার ৯২ হাজার ৪০৮ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ৪৪ হাজার ৪০১ ও পুরুষ ভোটার ৪৮ হাজার ৭ জন। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে মোট ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৯০ জন ভোটার এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
Posted by: পদ্মা পাড়ের মানুষ | 26/12/2008
লড়াই হবে নৌকা আর ধানের শীষে
Posted in মিরকাদিম